Home » রিভিউ » ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা : আপনি আবেদন করেছেন কি?

১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা : আপনি আবেদন করেছেন কি?

পরীক্ষার ধরন
বিগত বছরের তুলনায় এবার থেকে একটু ব্যতিক্রমী নিয়মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা। এনটিআরসিএ’র নতুন নিয়ম অনুযায়ী এ পরীক্ষা দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে প্রিলিমিনারি টেস্ট এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ধাপে প্রিলিমিনারি টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে। তিনটি পর্যায়ে পরীক্ষা হবে। স্কুল পর্যায়, স্কুল পর্যায়-২ ও কলেজ পর্যায়ে।

পরীক্ষার সময়
স্কুল ও স্কুল পর্যায়-২-এর প্রিলিমিনারি টেস্ট হবে আগামী ১২ জুন এবং কলেজ পর্যায়ের প্রিলিমিনারি টেস্ট হবে ১৩ জুন ২০১৫ তারিখ সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। আর লিখিত পরীক্ষা স্কুল পর্যায়ে ২৮ আগস্ট ও কলেজ পর্যায়ে ২৯ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হবে।

দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ২০১৫

আবেদনের শেষ সময় : ১৭ মে ২০১৫, সন্ধ্যা ৬টা 

আবেদনের যোগ্যতা
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক পাস হতে হবে। তবে সমগ্র শিক্ষাজীবনে যে কোনো একটি মাত্র তৃতীয় বিভাগ বা সমমনা জিপিএর ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে সদ্য উত্তীর্ণ প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের প্রশংসাপত্র, টেবুলেশন শিট বা নম্বরপত্র ও প্রবেশপত্রসহ আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু পরীক্ষায় অবতীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।

আবেদন প্রক্রিয়া
শিক্ষক নিবন্ধন প্রিলিমিনারি টেস্টের জন্য আবেদন করতে হবে অনলাইনে। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যথাযথভাবে আবেদনপত্র পূরণ করে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নিয়মানুসারে ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করে আবেদনপত্র সাবমিট করা সম্পন্ন হলে কম্পিউটারে ছবিসহ Application Preview দেখতে পাবে। নির্ভুলভাবে আবেদনপত্র সাবমিট করা সম্পন্ন হলে প্রার্থী একটি ইউজার আইডি, ছবি ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি Applicants কপি পাবে। ওই Applicants কপি প্রার্থী প্রিন্ট অথবা ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করবেন। Applicants কপিতে প্রদত্ত ইউজার আইডি ব্যবহার করে প্রার্থী বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদ্ধতিতে যে কোনো টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে দুটি এসএমএস করে পরীক্ষার ফি বাবদ ৩৫০ টাকার অনধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা দেয়ার পর প্রার্থীকে একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।
এ ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রার্থী তার প্রিলিমিনারি টেস্টের প্রবেশপত্র যথাসময়ে এই ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। প্রিলিমিনারি টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে হার্ডকপি পাঠানোর তারিখ ও সময় অবহিত করা হবে। এসএমএসে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীরা অনলাইনে পূরণ করে আবেদন ফরমের সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত কাগজপত্র ঢাকা জিপিও বক্স নম্বর-১০৩, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায় পৌঁছাতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি
প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে এক ঘণ্টার প্রিলিমিনারি টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। চারটি বিষয়ে ২৫ করে মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকবে। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান এ বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন থাকবে। প্রিলিমিনারি টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আবার ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। উভয় পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০। ফলাফল প্রকাশের তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উত্তীর্ণ প্রার্থীর সনদপত্র অনলাইন আবেদনপত্রে উল্লিখিত তার স্থায়ী ঠিকানার জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হবে। যে সনদ দিয়ে যে কোনো বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে।

পরীক্ষার প্রস্তুতি
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য পড়াশোনার নির্ধারিত কোনো সময় নেই। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি স্টাডি শুরু করতে পারেন। বিশেষ করে ফলাফলপ্রাপ্তির পরই আপনার স্থির হতে হবে যে আপনি এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চান কিনা। যদি তাই হয় তবে শুরু করুন পড়াশোনা। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা অর্জিত হলে লেগে যান কঠোর অধ্যবসায়ে।

সতর্কতা
প্রথম ধাপে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান এই বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন থাকবে। পুরো ১০০ নম্বরের মধ্যে আপনাকে ন্যূনতম ৪০ পেতে হবে। ৪০-এর কম হলে অকৃতকার্য বিবেচিত হবেন। সে ক্ষেত্রে আপনাকে এবারের মতো এখানেই থেমে যেতে হবে। অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী ঘোষণার জন্য। ৪টি বিষয়েই ব্যাপক পড়াশোনা করতে হবে। প্রশ্নের নির্ধারিত কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ফলে এ ধাপে উত্তীর্ণ হওয়াটা অনেক ক্ষেত্রেই কষ্টকর। বিগত বছরের প্রত্যেকটি নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণের হার ২০ শতাংশের নিচে। তাই কেবল কঠোর অধ্যবসায়ই আপনাকে সাফল্য এনে দিতে পারে।

বাংলা
স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়েই বাংলা ব্যাকরণ অংশে ভাষারীতি ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার, কারক বিভক্তি, সমাস, প্রত্যয়, সন্ধিবিচ্ছেদ, ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ এবং লিঙ্গ পরিবর্তন থেকে প্রশ্ন আসে। বাগধারা ও বাগবিধি, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, যথার্থ অনুবাদ এবং বাক্য সংকোচন থেকেও প্রশ্ন থাকবে। কলেজ পর্যায়ের জন্য প্রায়োগিক প্রয়োজনীয়তা থেকেও প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাকরণের প্রায় প্রতিটি অংশ থেকে এক থেকে দুটি করে প্রশ্ন আসে। সিলেবাসে উল্লেখ না থাকলেও প্রায়ই প্রশ্ন করা হয় বাংলা সাহিত্য থেকে। স্কুল পর্যায়ের জন্য নবম ও দশম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক, বোর্ড প্রণীত ব্যাকরণ এবং বাংলা প্রথম পত্র বইটি ভালোভাবে পড়তে হবে। কলেজ পর্যায়ের জন্য নবম-দশমের সঙ্গে দেখতে হবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই। প্রথমপত্র বইয়ের প্রতিটি গদ্য ও পদ্যের লেখক পরিচিতির অংশটি ভালোভাবে পড়তে হবে।

ইংরেজি : Completing sentences, Translation from Bengali to English, Parts of speech, Right forms of verb, Fill in the blanks with appropriate word or appropriate preposition, Uses of article, Transformation of sentences, Voice, Narration, Sznonyms, Antonyms, Phrases and Idioms থেকে প্রশ্ন থাকবে স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়ের প্রশ্নেই। পাশাপাশি কলেজের জন্য Identifz appropriate title from story or article, Errors in composition-এর প্রস্তুতি নিতে হবে। ইংরেজির সব প্রশ্নই থাকবে গ্রামারের ব্যবহার থেকে। গ্রামারে দুর্বল হলে কখনোই এ অংশে ভালো করা সম্ভব নয়। গ্রামার বই থেকে ঊীধসঢ়ষব গুলো বারবার চর্চা করলে কাজে আসবে। বিগত বছরের নিবন্ধন পরীক্ষার সব প্রশ্ন এবং বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ইংরেজি প্রশ্ন সমাধান করলেও বেশ কাজে দেবে।

গণিত
পাটিগণিতে ঐকিক নিয়ম, লাভ-ক্ষতি, শতকরা, সুদকষা, গড়, লসাগু, গসাগু, অনুপাত-সমানুপাত, বীজগণিতে মূলদ ও অমূলদ সংখ্যা, ফাংশন, উৎপাদক নির্ণয়, বর্গ ও ঘন, সূচক এবং লগারিদমের সূত্রের প্রয়োগ, জ্যামিতির ক্ষেত্রে রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, ক্ষেত্রফল ও বৃত্ত, পরিমিতি ও ত্রিকোণমিতি থেকে প্রশ্ন আসে। পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতির সাধারণ ধারণা, বিভিন্ন সূত্র, নিয়মাবলি ও এর প্রয়োগ থেকে প্রশ্ন করা হয়। বোর্ড প্রণীত অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর গণিত বইয়ের প্রতিটি নিয়মের অংক সমাধান করলে পরীক্ষায় ভালো করা যাবে। কলেজ পর্যায়ের জন্য দেখতে হবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর বই। উত্তরের ক্ষেত্রে এককের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। একটু অমনোযোগী হলেই উত্তর ভুল হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। কম সময়ে গণিত প্রশ্নগুলো সমাধানের জন্য বারবার চর্চা করতে হবে, মনে রাখতে হবে সংক্ষেপে সমাধানের টেকনিক।

সাধারণ জ্ঞান
সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ, রোগব্যাধি ও চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে। বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু, ইতিহাস ও সভ্যতা, সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি, বিভিন্ন সম্পদ থেকে প্রশ্ন থাকে। আন্তর্জাতিক অংশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা, বিভিন্ন দেশ পরিচিতি, মুদ্রা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ, আন্তর্জাতিক দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা, খেলাধুলা থেকে প্রশ্ন থাকে। প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, রোগব্যাধি, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য এবং পরিবেশসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন আসতে পারে। সাম্প্রতিক বিষয় যেমন বিশ্বকাপ ক্রিকেট, পাকিস্তান দলের বাংলাদেশ সফর, এ বছরের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার এ ধরনের বিষয়ে জোর দিতে হবে।

লিখিত পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষায় হবে অনার্স পর্যায়ে নিজের পড়া বিষয়ে। তাই এ বিষয়ে তেমন ভাবনার না হলেও হেলাফেলায় নিলেই বিপদ। আগের পড়া বিষয়গুলো বারবার চর্চা করতে হবে। শুরুতেই দেখে নিতে হবে সিলেবাস। বিগত বছরের প্রশ্ন দেখলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। একটি সাজেশন করে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের বই থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। বেশি বেশি লেখার চর্চা করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় রচনামূলক প্রশ্ন থাকে পাঁচটি। প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ১৫। থাকবে পাঁচটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, প্রতিটির মান ৫। প্রতিটি প্রশ্নেরই বিকল্প প্রশ্ন থাকে, ফলে একটি না পারলেও অপরটির উত্তর করা যাবে।

পরীক্ষা সন্নিকটে
এবারের পরীক্ষা যেহেতু সন্নিকটে তাই বসে থাকার আর উপায় নেই। যদিও কৃতকার্য না হওয়া পর্যন্ত যতবার খুশি পরীক্ষা দেয়া যায়। তবুও চেষ্টা থাকুক প্রথম বারেই সফলতার। তো আর দেরি নয়! করে ফেলুন আবেদন। নিতে থাকুন প্রস্তুতি। আপনার নিরলস পরিশ্রমই আপনার মুখে হাসি ফোটাবে।

Career Intelligence on Youtube