Home » সাক্ষাৎকার » মন থেকে কাজের প্রতি আগ্রহ না আসলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন

মন থেকে কাজের প্রতি আগ্রহ না আসলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন

পাবনার জমিদার পরিবারের ছেলে শুভাশীষ মজুমদার বাপ্পা। সবার কাছে পরিচিত বাপ্পা মজুমদার নামে। ১৯৭২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্ম গ্রহণ করেন সঙ্গীতযুগল ওস্তাদ বারীণ মজুমদার ও ইলা মজুমদারের ঘরে। শুধু শিল্পী হিসেবে নয়।
তিনি সমানভাবে পরিচিত গীতিকার এবং সুরকার হিসেবেও।
তার শৈশব, কৈশোর, পড়াশোনা, কর্মজীবন, ক্যারিয়ার ভাবনা ইত্যাদি বিষয়ে ক্যারিয়ার ইন্টেলিজেন্সের সাথে কথা বলেছেন তিনি।
বলেছেন সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার কারণও।
আসুন জেনে নিই তাঁর মুখ থেকেই…..

আপনার বেড়ে ওঠা সম্পর্কে  বলবেন কি?
– শৈশবে আমরা থাকতাম সেগুন বাগিচায়। এখন যেখানে শিল্পকলা একাডেমির ভবন, তার বিপরীত পাশেই ছিল মিউজিক কলেজ। পড়াশোনার বাইরে যতটুকু সময় পেতাম ওখানেই কাটাতাম। কথা শুনে মনে হতে পারে ছোট বেলা থেকেই আমি খুব গান পাগল ছিলাম আসলে বিষয়টা তা নয়। বাবা অনেক বড় মাপের শিল্পী ছিলেন তাই আমি তার সামনে যেতে ভয় পেতাম। কারণ তখন যা-ই উচ্চারণ করতাম তার অধিকাংশই ছিল ভুলে ভরা। মূলত বাবার কাছ থেকে দূরে থাকার জন্যই বেশি বেশি মিউজিক কলেজের দিকে যেতাম।

 কৈশোর কোথায় কেটেছে?
– আমার কৈশোর কেটেছে সিদ্ধেশ্বরি এলাকায়। শুধু কৈশোর নয়, টানা ২৭ বছর কাটিয়েছি সেখানে। সোজাভাবে বললে,  ছাত্রজীবনের পুরো সময়টাই কেটেছে ওই খানে।

যেহেতু ছাত্রজীবনের কথা চলে এলো, তো আপনার পড়াশোনা সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
– আমি প্রাইমারি পড়েছি লিটল জুয়েলার্স স্কুলে, ১৯৮৮ সালে এসএসসি পাস করেছি লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল থেকে। নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছি ১৯৯০ সালে। আর গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছি সিটি কলেজ থেকে।

আপনার সংঙ্গীত জীবন নিয়ে কিছু বলুন?
– যে বাবাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পেতাম সেই বাবার কোলে বসেই আমার সঙ্গীতের শুরু। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন, চেষ্টা করেছি অনেক কিছু শেখার। তবে ওই সময়টায় আমার সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল তবলা শেখার প্রতি। মনিকাকু (ওস্তাদ কামরুজামান মানিক) আমাকে নিয়মিত তবলা বাজানো শেখাতেন। তখনই আমি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম অরনি শিল্পী গোষ্ঠি নামে একটি সংগঠন। যার পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে গিয়ে প্রথম দর্শকদের সামনে দাড়িয়েছিলাম। মূলত ওই দিন আমি দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছিলাম। তা থেকেই আজকের বাপ্পা হয়ে ওঠা।

প্রথম উপার্জনের স্মৃতিটা শেয়ার করবেন?
– ১৯৮৮/৮৯ সালের দিকে হোটেল সোনারগাঁয়ে গিটার বাজিয়ে পঞ্চাশ টাকা পেয়েছিলাম। মনে আছে ওটা আমি গাড়ির ভাড়া দিয়েই শেষ করে ফেলেছিলাম।

কর্মজীবন নিয়ে বলুন?
– অন্য আট দশজন থেকে আমার কর্মজীবন ভিন্ন। কারণ যে গান আমার নেশা, সেটাই এখন পেশায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে এখন আমার গানের প্রতি ভালোবাসা দুইভাবে জন্ম হয়েছে। আগে যেখানে সব কিছুর মাঝে নিজের ভালোলাগাটাকে স্থান দিতাম। সেখানে এখন বিষয়টি অন্যের কেমন লাগছে সে বিষয়টিও ভাবতে হয়। অন্যের ভালো লাগার যে ভাবনা, সেটা সৃষ্টি হয়েছে আমার প্রফেশনালিজম থেকেই।

পেশা হিসাবে সঙ্গীতকে বেছে নেবার নেপথ্যে কী?
– নেপথ্যে আসলে তেমন কিছুই নেই। আমি সব সময় মনে করি, যা করবো তার প্রতি একটি আগ্রহ আমার মন থেকে আসতে হবে। তা না হলে সেখানে প্রতিষ্ঠা পাওয়া কঠিন।

বর্তমান অবস্থায় আসতে কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে?
– কাজের প্রতি আগ্রহ, দর্শকদের ভালোবাসা এবং আবিদুর রেজা জুয়েল ভাই ও সঞ্জিব দা’র অনুপ্রেরণা।

নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট?
– আমি মনে মনে এই বয়সে যে জায়গায় থাকার পরিকল্পনা করেছিলাম সেখানেই আছি।

এ পর্যন্ত তো বেশ কিছু দেশ ভ্রমণ করেছেন। বাইরের দেশের তরুণদের সাথে আমাদের দেশের তরুণদের ক্যারিয়ার ভাবনার মধ্যে কী পার্থক্য লক্ষ করেছেন?
– এই প্রশ্নটি কিছুটা ক্রিটিক্যাল। পৃথিবীর সব দেশের তরুণ-তরুণীদের আমার কাছে একই মনে হয়। তারা যা কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তা অনেক দ্রুত করে ফেলার একটি পথও খুজে বের করে ফেলে। এখানে ভাবনার যে পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে, সেটা আমি ওভাবে কখনো চিন্তা করিনি। তবে আমরা যে বয়সে কর্মসংস্থান নিয়ে নার্ভাস হয়ে পড়ি। অন্য দেশগুলোতে সেই বয়সের তরুণেরা নিজ উদ্যোগেই অনেক কিছু করে ফেলে। বিশেষ করে, ইন্টারমিডিয়েট পাসের পরই অধিকাংশ তরুণ তরুণীকে ব্যাংক লোন নিয়ে পড়তে হয়। ফলে কাজের প্রতি একটি দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয় তখন থেকেই। এই দায়বদ্ধতাই তাদেরকে অনেক কিছু করতে বাধ্য করে। যা আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে খুব কম দেখা যায়।

আপনার পারিবারিক জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন?
– স্ত্রী মেহবুবা চাদনী ও আমি এই নিয়েই আমাদের ছোট সংসার। তবে এই সংসারের আরো দুজন সদস্য রয়েছে। যারা হলেন পার্থ প্রতিম মজুমদার ও মেরিনা আহমেদ টিপু।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ
মো: আলমগীর কবির
প্রতিবেদক, ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স

Career Intelligence on Youtube